বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বর্তমানে মাতারবাড়িতে বসবাস করছেন। গণিত ও বিজ্ঞান বিষয় পড়ানো ছাড়াও তিনি কোচিং ব্যবসার সাথে যুক্ত। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, তার কোচিংয়ে না পড়লে পরীক্ষায় নাম্বার কমিয়ে দেওয়া, ফেল করিয়ে দেওয়া ও নানা হুমকি নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রসহ কয়েকজনকে ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে দেন তিনি। পরে অভিভাবকদের অভিযোগে খাতা পুনর্মূল্যায়ন করলে তারা সবাই পাশ করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জিয়াউর রহমান তাদের উদ্দেশ্যে হুমকিসূচক ভাষায় বলেন, “আমার কাছে প্রাইভেট না পড়লে কলিজা ছিঁড়ে ফেলবো।” “নাইনে উঠলে দেখে নেবো।” “ব্যবহারিক বিষয়ের নাম্বার আমার হাতে, দেখিস কিভাবে দিই।”
ক্লাসে পড়া না পারলেই তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে আঘাত, টিটকারি ও মানসিক নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ৮ম শ্রেণির এক মেধাবী ছাত্রীকে মানসিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায় তার অভিভাবক লিখিত অভিযোগও করেছেন।
অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষক জিয়াউর রহমান শ্বশুরবাড়ির প্রভাব খাটিয়ে বিদ্যালয়ে কর্তৃত্ব দেখাচ্ছেন। এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন একজন লোভী ও বেয়াদব মানুষ কিভাবে শিক্ষক হলো? সন্তানরা তার কারণে পড়ালেখা থেকে বিমুখ হয়ে যাচ্ছে।” আরেকজন বলেন, “বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমরা আদালতে যাবো।”
প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সত্য। তবে তিনি সাংবাদিককে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি সংবাদে প্রকাশ না করতে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বলেছেন, “আমি কিছু বলবো না, প্রধান শিক্ষক বা সভাপতির কাছে জেনে নিন।”
0 Comments